গাইবান্ধা থেকে মোঃ আবু জাফর মন্ডলঃ
উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তিতে আলুর অধিক ফলনের বার্তা, কৃষকদের মাঝে হাইব্রিড ধান বীজ বিতরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার আলী গ্রামে কৃষির আধুনিকায়ন ও অধিক ফলন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক ব্যতিক্রমধর্মী কৃষক কর্মশালার আয়োজন করেছে BRAC সীড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজ। “আধুনিক উৎপাদন কলাকৌশল প্রয়োগে আলুর অধিক ফলন নিশ্চিতকরণ” শীর্ষক এই কর্মশালায় স্থানীয় কৃষকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
গ্রামীণ কৃষিকে আরও টেকসই, লাভজনক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে আয়োজিত এই কর্মশালায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৬০ জন কৃষক অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় আলু চাষের আধুনিক পদ্ধতি, উন্নত বীজ নির্বাচন, সুষম সার ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই দমন, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ রশিদুল ইসলাম, রিজোনাল সেলস ম্যানেজার, রংপুর অঞ্চল। তিনি বলেন,
“বর্তমান সময়ে কৃষিকে লাভজনক করতে হলে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। সঠিক পরিচর্যা ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে আলুর উৎপাদন কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ মেজবাউল ইসলাম, ডিলার, ব্র্যাক সীড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজ। তিনি স্থানীয় কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন,
“কৃষকই দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। কৃষকের উন্নয়ন মানেই দেশের উন্নয়ন। ব্র্যাক সীড সবসময় কৃষকদের পাশে থেকে উন্নত কৃষি প্রযুক্তি পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে।”
অনুষ্ঠানটি দক্ষতার সঙ্গে সঞ্চালনা করেন মোঃ রেজাউল করিম, সিনিয়র টিএসও, গোবিন্দগঞ্জ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জান্নাতুন নাঈম সুনান, টিএসও, গাইবান্ধা।
কর্মশালার অন্যতম আকর্ষণ ছিল অংশগ্রহণকারী কৃষকদের মাঝে উন্নতমানের হাইব্রিড ধান বীজ বিতরণ। অনুষ্ঠানে ৪০ জন কৃষকের প্রত্যেককে ১ কেজি করে হাইব্রিড ধান বীজ প্রদান করা হয়। এই উদ্যোগ কৃষকদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। কৃষকরা জানান, উন্নতমানের বীজ ও আধুনিক কৃষি জ্ঞান তাদের উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক আয়োজন মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণে উৎসাহিত করে। কর্মশালার মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গ্রামীণ কৃষিকে আরও সমৃদ্ধ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে ব্র্যাক সীডের এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।