গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অসহায় বাসিন্দা মোঃ রমজান আলী। দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসা নিজ বসতভিটার নিরাপত্তা হারিয়ে এখন পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
জানা যায়, ধর্মপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ রমজান আলী, পিতা মৃত কফিল উদ্দিন এবং একই গ্রামের মোঃ হাফিজুর রহমান, পিতা মৃত আব্দুল কাশেম—উভয়েই ১৮ শতাংশ জমির ভাগী শরিক। এর মধ্যে প্রায় ১২ শতাংশ জমির ওপর বহু বছর ধরে রমজান আলী তার বসতভিটা নির্মাণ করে পরিবারসহ বসবাস করে আসছেন। অপরদিকে অবশিষ্ট ৬ শতাংশ জমিতে হাফিজুর রহমান একটি চায়ের দোকান স্থাপন ও পুকুর খনন করে বসবাস করছেন।
অভিযোগ উঠেছে, হাফিজুর রহমান তার অংশের জমিতে এমনভাবে পুকুর খনন করেন, যা রমজান আলীর ব্লিডিং (ইটের) ঘরের দেয়াল ঘেঁষে চলে আসে। ফলে মাটির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে রমজান আলীর বসতঘরের একটি অংশ ধসে পড়ে এবং পুরো ঘরটি মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়।
এছাড়াও, ঘর ভেঙে পড়ার সময় রমজান আলীর কনফেকশনারি দোকানের বিভিন্ন মালামাল পাশের পুকুরে পড়ে গিয়ে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাফিজুর রহমানের খনন করা পুকুরের কোনো সুরক্ষিত পাড় না থাকায় বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানিতে মাটি ও ইট ধসে পড়ে ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়ছে।
ভুক্তভোগী রমজান আলী জানান, বিষয়টি নিয়ে এর আগেও একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ করা হলেও কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। বরং পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে যেকোনো সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষের সৃষ্টি হতে পারে।
এলাকাবাসীর দাবি, একজন সাধারণ পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে রমজান আলী দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু প্রতিবেশীর অসতর্ক ও দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ডে আজ তিনি বসতঘর, ব্যবসা এবং পরিবারের নিরাপত্তা—সবকিছু হারানোর মুখে দাঁড়িয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল এবং এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে ভুক্তভোগী রমজান আলী ও তার পরিবার যথাযথ আইনি সহায়তা পেয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারেন।
অসহায় রমজান আলীর একটাই দাবি—“আমার পরিবারকে নিরাপদে বাঁচার সুযোগ দেওয়া হোক, আমি ন্যায়বিচার চাই।”