• শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০১:৪৩ অপরাহ্ন
Headline
ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী চেতনার মশালবাহী: বাহিরচর ইউনিয়ন যুবদলের হাল ধরলেন এনামুল হক প্রবীণ সাংবাদিক মাওলানা মোজাহেরুল কাদের ফারুকীর মমতাময়ী “মা” মোহছেনা খাতুন’র ইন্তেকাল বান্দরবানে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন ইয়াবাসহ জনতার হাতে আটক বান্দরবানের ছাত্রলীগ নেতা রায়হান প্রতিবেশীর পুকুর খননে ভেঙে গেল বসতঘর, সর্বস্ব হারিয়ে আইনি সহায়তার আশায় সুন্দরগঞ্জের রমজান আলী মদনে হোটেল ব্যবসার আড়ালে মাদক বিক্রি গ্রেপ্তার হীরা বিদেশে চাকরি বিনিময়ে ১৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার মদনে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে রাজিব নামের যুবক নিহত বান্দরবান মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনে সভাপতি নুরুল ইস:বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর দায়িত্ব ফিরে পেয়ে কৃতজ্ঞতা জানালেন গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলী

টাকার অভাবে মাহামুদার ডাক্তারী পড়া যেন না থেমে যায়

মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, স্টাফ রিপোর্টার / ৭৯ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

মোঃ নাসিরউদ্দিন সিনিয়র সটাফ রিপোর্টার

মাহমুদার বাড়ি রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউপির কৃষ্ণপুর গ্রামে। বাবা চা বিক্রেতা মাসুদ রানা ও মা সায়েরা বিবি একজন গৃহিনী। মাসুদ রানার শুধু দুই মেয়ে । এর মধ্যে মাহমুদা বড়, ছোট মেয়ে মিম খাতুন ৬ষ্ট শ্রেনীতে পড়াশুনা করেন। মাহমুদা খাতুন ২০২৩ সালে কৃষ্ণপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ ও ২০২৫ সালে কৃষ্ণপুর আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজ হতে এইচএসসিতেও গোল্ডেন জিপিএ -৫ পেয়েছেন।বাবা মাসুদ রানা বলেন, মাহমুদা ছোট থেকেই পড়াশুনাই আগ্রহী। আমরা পড়া লেখা জানিনা। মেয়ে পড়ার আগ্রহ দেখে খেয়ে না খেয়ে গ্রামের প্রতিষ্ঠানে এইচএসসি পর্যন্ত পড়াছি। প্রাইভেট পড়ার টাকাও দিতে পারিনি সে সময়। সে গরীবের মেয়ে হলেও তার চোখে মুখে স্বপ্ন ছিল ডাক্তারি পড়ার। তার মেধাশক্তি ও ইচ্ছার প্রতিফলন আল্লাহপাক কবুল করেছেন। মাহমুদার বাবা মাসুদ রানার মোবাইল নং ০১৭৯৬-৮৮১৪৪৯।মাসুদ রানা বলেন, আমি গ্রামের ছোট দোকানের চা বিক্রি করে প্রতিদিন আয় হয় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। এতে সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। এ আয় দিয়েই আমি গ্রামের কলেজে কোন রকম পড়ালেখা করাতে পেরেছি। এখন মেডিকেলে ভর্তি হয়েছে। ভর্তি সময় ১৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে সে টাকাও ধার করে। ক্লাশ শুরু হয়েছে তার বই কিনতে লাগবে ২০ হাজার ও একটি স্কিলেটন(কঙ্কল) যার মুল্য ৪০ হাজার টাকা। এতো টাকা জোগার করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এছাড়াও প্রতি মাসে খাতা কলম ও হোস্টেলের খাওয়া খরচ মাহমুদার লাগবে আরো ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে।মাহমুদার মা সায়েরা বিবি কান্না কন্ঠে বলেন,আমাদের কোন সম্পতি নেই যে বিক্রি করে মাহমুদাকে পড়ার খরচ জোগাবো। গ্রামে মাত্র ২ শতক জমিতে মাটি ও বেড়ার তৈরির বাড়িতে বাস করি। সংসারে অভাব অনটন লেগেই থাকে। মেয়েটি ছোট থেকে ধার্মিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। আল্লাহর কাছে কান্না করেন যেন পড়াশনা করে বড় ডাক্তার হয়ে গ্রামের সাধারণ গরীব-দুখি মানুষের ফ্রি চিকিৎসা করতে পারেন।সাহেরা বিবি বলেন, আমার এ গরীব মেয়ে মেডিকেলে ভর্তি হয়েছে। তার যে ডাক্তার হওয়া স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারে সে জন্য রাষ্টের বর্তমান সরকার ও দেশের বিত্তমানদের কাছে আমার বিশেষ অনুরোধ আমার মেয়ে পাশে আমরা দাড়াবেন।মাহমুদা খাতুন বলেন, ১ম বর্ষের ক্লাশ শুরু হয়েছে। তাই গত এক সপ্তহ আগে জামালপুর মেডিকেল কলেজে হোস্টেলে গিয়ে উঠেছেন। নিজের বই না থাকায় পড়াশুনাই একটু কষ্ট হচ্ছে। এছাড়াও কলেজ কর্তপক্ষ আমাকে একটি স্কিলেটন (কঙ্কল) কিনতে বলেছেন। কিন্ত আমার বাবা টাকার অভাবে এখনও কেনে দিতে পারেনি।মাহমুদা প্রতিবেশি হেলাল উদ্দিন তিনি মুন্ডুমালা পৌরসভায় চাকুরি করে কথা হয় সাথে হেলাল উদ্দিন বলেন, মাহমুদা ছোট থেকে বাবা সংসারে শুধু অভাব-অনটনে বেড়ে উঠা তার। অন্যের বই ধার করে অনেক সময় পড়া লেখা করতে হয়েছে। তার বাবা মাসুদ রানা গ্রামে সকালে ও বিকালে চা বিক্রি করেন। কোন কোন সময় মানুষে কামলা খাটেন। গ্রামে অনেক ধনী পরিবার থাকলে মেডেকেলে ভর্তির সুযোগ পাইনি। মাহমুদার পাশে সবাইকে দাড়ানো উচিৎ।তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাঈমা খান বলেন, মাহমুদা খাতুন মেডিকেল কলেজে ভর্তির বিষয়টি জানতাম না। এমন পরিবার থেকে মেডিকেলে ভর্তি শুধু তার পরিবারের একাই নয় পুরো তানোর উপজেলার সে গর্ভ। তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেলে জেলা প্রশাসক স্যারে সাথে কথা বলে কিছু আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে। তবে,শুধু সরকারী সহায়তা নয়, এমন অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্য দেশের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা