অনলাইন ডেস্ক
রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি জমি বরাদ্দ নেওয়ার ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার ও নানা অনিয়মের অভিযোগে করা দুদকের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪। জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে আরও ছয় মাস কারাভোগ করতে হবে।
একই মামলায় শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানাকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও সমপরিমাণ অর্থদণ্ড এবং তার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে দুই বছরের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা না দিলে তাঁদেরও অতিরিক্ত ছয় মাস কারাভোগের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার আদালতের বিচারক রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন।
এ মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (অব.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, সাবেক পরিচালক নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ এবং তদন্তের পর যুক্ত হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন ও সাবেক গৃহায়ন প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ। আদালত তাঁদের প্রত্যেককে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানা না দিলে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
এর আগে গত ২৫ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ করে আদালত ১ ডিসেম্বর রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠার একটি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার করার অভিযোগে দুদকের উপপরিচালক সালাহউদ্দিন গত ১৩ জানুয়ারি শেখ রেহানাকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন। মামলায় শেখ হাসিনা, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ মোট ১৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। পরে তদন্ত শেষে আরও দুইজনকে অন্তর্ভুক্ত করে ১৭ জনের বিরুদ্ধে ১০ মার্চ চার্জশিট জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া।
গত ৩১ জুলাই আদালত তিনটি মামলায়ই অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু করেন। এই মামলায় মোট ৩২ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেন।