• বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০৭:২২ পূর্বাহ্ন
Headline
মদন উপজেলা বাসীকে ঈদ উল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইউএনও নাদির হোসেন শামীম কুড়িগ্রামের চরে ঈদের আনন্দ ম্লান, অনেক পরিবারে মিলবে না এক কেজি মাংসও মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে দেশবাসীকে মোঃ রাকিবুল ইসলাম মিঠু শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন কুড়িগ্রাম শহরের বইঘরের সামনে বৈদ্যুতিক খুঁটির তারে আগুন: নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস কক্সবাজারে আদালত প্রাঙ্গনে গুলির ঘটনায় পৃথক দুই মামলা, আসামী ১৩ জন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে তানোর বাসীদের এম,এ,মালেক মন্ডলের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন এবং ঈদ মোবারক শেরপুরে অর্ধশত পরিবারের মাঝে সেবার আলো সংগঠনের ঈদ উপহার বিতরণ কুড়িগ্রামে বাজেট নিয়ে নাগরিক সংলাপ: সম্ভাবনা ও উন্নয়নে বাড়তি বরাদ্দের দাবি ​হলুদিয়ায় অন্য অপরাধ ঢাকতে যুবককে পিটিয়ে চমেক হাসপাতালে পাঠালো পরকীয়া হাতেনাতে ধরা খাওয়া সেই আজাদ এর সন্ত্রাসীরা

খারেজি আরসা: রোহিঙ্গার জাতির সবচেয়ে ভয়ংকর শত্রু

বার্তা সম্পাদক / ৩২ Time View
Update : শনিবার, ৯ মে, ২০২৬

গোয়েন্দা ডেস্কঃ

রোহিঙ্গা! এমন একটি শব্দ, যার সাথে জড়িয়ে আছে একটি নিপীড়িত জাতির করুণ ইতিহাস। যে শব্দটির মাঝে রয়েছে এক দীর্ঘ আর্তনাদ, এক অবিরাম কান্না, এবং একটি জাতির বেঁচে থাকার লড়াই।
যেই জাতি দেখেছে গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, বাস্তুচ্যুতি এবং দেখেছে পৃথিবীর নির্মমতম বর্বরতা। কিন্তু সবচেয়ে বেদনাদায়ক সত্য হলো, তাদের এই দুঃখের মাঝেই জন্ম নিয়েছে এমন এক শক্তি, যা শত্রুর থেকেও ভয়ংকর। হ্যাঁ, আমরা বলছি আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি তথা আরসার কথা।
যারা একদিকে নিজেদের “রোহিঙ্গা জাতির মুক্তির দিশারি” হিসেবে পরিচয় দেয়, অথচ বাস্তবে তারা রোহিঙ্গা জাতির বুকেই ছুরি বসিয়ে চলেছে বারবার। একবার ভেবে দেখুন :
যেখানে একটি জাতি শত্রুর সাথে লড়াই করছে, সেখানে যদি নিজ জাতির ভেতর থেকেই কেউ নিজেদের “জাতির রক্ষক” পরিচয় দিয়ে জাতির স্বাধীনতাকে তরান্বিত করতে কাজ করা নেতৃবৃন্দকে হত্যা করে, সমাজে মাদক ছড়িয়ে দেয়, একইসাথে নারী ও শিশুদের পাচার করে এবং ইসলামের নামে মিথ্যা ফতোয়া দেয় তাহলে কি সেটি এক সুপরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ নয়?
খারেজি আরসা ও আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনির অতীত…
ইয়াবা ব্যবসা, মানব পাচার, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপহরণ, নারী নির্যাতন, রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মুহিবুল্লাহসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আলেম হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত থাকায় আরসার আমির খারেজি আবু আম্মার জুনুনি (আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি) বর্তমানে বাংলাদেশের কারাগারে আটক রয়েছে।
আতাউল্লাহর জীবনের সূচনা পাকিস্তানে, আর বেড়ে ওঠা সৌদি আরবে। এই সময় থেকেই সে দায়েশের খোরাসানি গ্রুপের আদর্শে প্রভাবিত হতে থাকে যা মূলত জামাতুল আহরার বা আইএসআইএস-কে (খোরাসান শাখা) নামে অধিক পরিচিত একটি খারেজি সংগঠন।
পরবর্তীতে সে এই গোষ্ঠীর সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করে এবং পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মালাকান্দ ডিভিশনে তিন মাসের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের হাতে বাইয়াত নিয়ে সৌদি আরব হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
২০১৭: একটি অপরিকল্পিত হামলা, আর এক ভয়াবহ গণহত্যার…
বাংলাদেশে এসে ২০১৬ সালের মে মাসে কক্সবাজারের টেকনাফে অবস্থিত একটি আনসার ক্যাম্প লুট করে যা নথিভুক্ত একটি ঘটনা।
এই লুট করা অস্ত্র দিয়েই জুনুনির নেতৃত্বাধীন আরসা ২০১৭ সালে আরাকানে মিয়ানমারের বর্ডারগার্ড পুলিশের ওপর কয়েকটি অপরিপক্ক হামলা চালায়। এই হামলায় তারা মাত্র ১২ জন পুলিশ সদস্যকে হত্যা করতে সক্ষম হয়, অথচ তাদের নিজেদের ৭৭ জন সদস্যই প্রাণ হারায়।
এই হামলাকে কেন্দ্র করে ২০১৭ সালে মিয়ানমার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ রোহিঙ্গা গণহত্যা সংঘটিত করে, যেখানে প্রায় ৩৬ হাজার মানুষ নিহত হয়, ১৮ হাজার মুসলিম মা-বোন ধর্ষিতা হন এবং প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। তাহলে এই ভয়াবহ গণহত্যার উস্কানিদাতা ও বৈধতাদানকারী কে? উত্তর এই খারেজি আরসা।
রোহিঙ্গাদের জাতির বিরুদ্ধে আরসার ধ্বংসযজ্ঞঃ
২০১৭ সাল থেকে আরসা রোহিঙ্গা মাজলুম জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভয় ও ত্রাস ছড়ানোর মাধ্যমে তাদের খারেজি চরিত্রের প্রমান দিয়ে আসছে। তাদের কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য ছিল রোহিঙ্গা নেতা ও আলিমদের হত্যা করে একটি নেতৃত্বশূন্য অবস্থা তৈরি করা, যাতে আরসার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে না পারে।
আরসার এসব সহিংস অভিযানে এখন পর্যন্ত হাজারেরও অধিক রোহিঙ্গা নেতা, আলেমে দ্বীন এবং সাধারণ জনগণ প্রাণ হারিয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরা হলেন… “মাওলানা মোহাম্মদ হাশিম, মাওলানা জামাল, সুনা মিয়া, শওকত আলী, মাস্টার জাফর, আমান উল্লাহ, সৈয়দ নূর, আব্দুর রহিম, হাফিজ মাহবুব, হাফিজ সৈয়দ হোসেন, শফিক, মাস্টার হারুন (সাবেক চেয়ারম্যান), মাস্টার আয়াস, হাফিজ হুমায়ুন কবির, মাস্টার কবির আহমেদ (সাবেক চেয়ারম্যান), মাস্টার সালাহ আহমেদ। (সাবেক চেয়ারম্যান)”
আরসার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য হত্যাকান্ডঃ
রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মুহিবুল্লাহর হত্যাকাণ্ড…
২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর, রোহিঙ্গাদের মাঝে তুমুল জনপ্রিয় নেতা মাস্টার মুহিবুল্লাহকে কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে তার নিজ অফিসে আরসার সদস্যরা নির্মমভাবে হত্যা করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আরসার ৬জন সশস্ত্র ব্যক্তি মাস্টার মুহিবুল্লাহর অফিসে ঢুকে তাকে একাধিক রাউন্ড গুলি করে হত্যা নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। পরবর্তিতে তার ভাই মাস্টার আরিফ উল্লাহ কেও তারা একই কায়দায় হত্যা করে, আর এই হত্যাকাণ্ড সরাসরি আরসার সামরিক প্রধান আতাউল্লাহর নির্দেশেই ঘটানো হয়। মাস্টার মুহিবুল্লাহর হত্যাকাণ্ড ছিল একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে আরসা রোহিঙ্গা মুসলিমদের নেতৃত্বকে ধ্বংস করে দেয়ার চেষ্টা করেছে।
আরসার হাতে বিশিষ্ট আলিমদের রক্তঃ
১। শাইখুল হাদীস মাওলানা আব্দুল্লাহ (রাহিঃ) এর হত্যাকাণ্ড…
শাইখুল হাদীস মাওলানা আব্দুল্লাহ (রাহিঃ), যিনি আরাকানের লুদাইং পশ্চিম পাড়া গ্রামের একজন বিশিষ্ট আলিম ছিলেন।
পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন বড় ফকিহ এবং ইসলামের নানা শাস্ত্রে গভীর প্রজ্ঞার অধিকারী ব্যক্তি। রোহিঙ্গাদের মাঝে যিনি মুফতিয়ে আজম হিসেবে বিখ্যাত ছিলেন আরসা তাকে বহুবার নিজেদের পক্ষে ফতোয়া দেওয়ার প্রস্তাব করেছিল, প্রত্যেকবারই তিনি তাদের ভ্রান্ত প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। অবশেষে কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে আরসার কুখ্যাত ডাকাত উস্তাদ খালেদ নিজ হাতে তাকে বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে নির্মমভাবে শহীদ করে দেয়, এসময় আরসা প্রধান আতা উল্লাহ জুনুনীও স্বশরীরে সেখানে উপস্থিত ছিল।
২। মাওলানা হাশিম (রাহিঃ) এর হত্যাকাণ্ড…
মাওলানা হাশিম (রাহিঃ), যিনি সেক্টর ০৪-এর আওতাধীন কুমিরখালি গ্রামের জামিয়া সামশুল উলুম মাদ্রাসার পরিচালক ছিলেন। যিনি রোহিঙ্গা মুসলিমদের শিক্ষা বিপ্লবের স্বপ্ন দেখতেন ও দেখাতেন। তিনি আরব বিশ্বে অত্যন্ত সম্মানিত আলিম হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
তিনি এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন যেখানে একজন ছাত্র দাওরা হাদিসের পাশাপাশি বার্মিজ কারিকুলামেও পড়াশোনা করতে পারতেন, যা রোহিঙ্গাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। রোহিঙ্গা জাতির এই মহান ব্যক্তিকেও আরসা অত্যন্ত নির্মমভাবে শহীদ করে দেয়।
৩। মাওলানা হামিদ উল্লাহ (রাহিঃ) এর হত্যাকাণ্ড…
মাওলানা হামিদ উল্লাহ (রাহিঃ) এমন একজন আল্লাহভীরু মুত্তাকী আলেম ও মুজাহিদ ছিলেন, যিনি পাকিস্তান থেকে আফগানিস্তানে গিয়ে মোল্লা ওমর (রাহিঃ) এর অধীনে জিহাদ করেছিলেন। তিনি ক্যাম্প ১৮-এ ইসলামি মাহাজের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
তার প্রজ্ঞা ও তাকওয়া রোহিঙ্গা সমাজের মধ্যে যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছিল। ক্যাম্প ১৮-এর মাদ্রাসায় নারকীয় হামলা চালিয়ে খারেজী মতাদর্শ লালনকারী আরসা মাওলানা হামিদ উল্লাহ এবং উনার সাথী অনেক আলিমকে একই সাথে শহীদ করে দেয়।
আরসার মাদক পাচার এবং মাদককে ‘হালাল’ ফতোয়াঃ
ইসলামে যেটি কঠিনভাবে হারাম তাকেও হালাল করেছে আরসা। দায়েশের পথ অনুসরণ করে মাদককে ‘হালাল’ ফতোয়া দিয়ে জন্মলগ্ন থেকেই যে আরসা ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক পাচার করে চলেছে তা রোহিঙ্গা মুসলিমদের অজানা নয়।
তারা টেকনাফ ও কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোকে মাদকের আখড়ায় পরিণত করেছে। বিশ্বের অন্যতম বড় ইয়াবা চালানগুলোর মধ্যে ২০১৮ সালে আরাকান রাজ্যের মংডু এবং বুথিডং অঞ্চলে ৬.৯৬ মিলিয়ন ইয়াবা ট্যাবলেটের যে চালানটি ধরা পড়ে, তার বড় একটি অংশ ছিল আরসা নিয়ন্ত্রিত।
যা মিডিয়ায় বেশ ভালো ভাবেই সামনে এসেছিল। আরসার এই মাদক পাচার নেটওয়ার্ক শুধু বাংলাদেশেই নয়, বরং মিয়ানমারের অন্যান্য স্থানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও ছড়িয়ে পড়েছে।
আরসা যেভাবে ভারত ও মিয়ানমারের গোয়েন্দা সংস্থার অস্ত্রে পরিণত হল…
২০১৭ সালে মিয়ানমারের তৎকালীন জান্তা সরকার চাইছিলো যে, কফি আনান কমিশন রোহিঙ্গাদের পক্ষে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করার আগেই যেকোনো ভাবেই হোক রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিতর্কিত করে দিতে হবে। এই লক্ষ্যে তাদের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা “সা ইয়া ফা” ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা RAW এবং ইজরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের পরামর্শে আরসাকে নিজেদের ফাঁদে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়।
আরসার মাদক বিক্রির হালাল ফতোয়াকে কাজে লাগিয়ে তারা আরসার বিভিন্ন নেতার সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা আরসার প্রধান আবু আম্মার জুনুনি এবং তাদের কথিত উস্তাদ খালিদকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিতে সক্ষম হয়।
তারই ফলস্বরূপ, ২০১৭ সালের ২৫শে আগস্ট ভারত ও মায়ানমারের গোয়েন্দাদের উস্কানিতে আরসা মায়ানমার পুলিশের উপর তাদের সেই অপরিকল্পিত ও আনাড়ি আক্রমণ করে বসে।
এটি ছিল মূলত ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা RAW, মিয়ানমারের গোয়েন্দা সংস্থা সা-ইয়া-পা, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এবং উগ্র বৌদ্ধ সংগঠন মাবাথা (MaBaTha)-এর একটি সমন্বিত পরিকল্পনার অংশ ছিল। এমনকি এই পরিকল্পনাকে সফল করতে তৎকালীন সময়ে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান নিজেই মিয়ানমার সফর করেছিল।
এই সমন্বিত পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য ছিল গণহত্যার পরিবেশ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে আরসাকে সীমিত আকারে হামলার সুযোগ করে দেওয়া, যাতে আরাকানের নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যাপক গণহত্যা চালানোর একটি “যৌক্তিকতা” তৈরি করা যায়।
অনেকের মতে, আরসা এই হামলাগুলো মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করেই পরিচালনা করেছিল। পরবর্তীতে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, সে সময় সৌদি আরবে অবস্থানরত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আরসার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মাওলানা আবুল কালামের একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
ভারতের পক্ষ নিয়ে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ বিরোধী সন্ত্রাসী জোটে আরসাঃ
এদিকে ২০২৪ সালের শুরু থেকে টিটিবি, টিটিপি এবং আরসা এই তিনটি গোষ্ঠী সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করে। যারা কুফফারদের ছেড়ে দিয়ে তাগুত আখ্যায়িত করে মুসলিমদের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিচ্ছে।
এই জোটে টিটিবির প্রধান মুফতি উসমান (মুফতি আবু ইমরান) এবং টিটিবির মিডিয়া প্রধান তামিম আল আদনানি, টিটিপির পক্ষে ইমরান হায়দার এবং আরসার বর্তমান নেতৃত্ব পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই তিনটি গোষ্ঠীর সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে মুসলিমরা নয়, বরং ভারতই ব্যাপকভাবে লাভবান হচ্ছে।
টিটিবি মূলত মুফতি উসমান পরিচালিত আনসার আল ইসলামেরই নতুন নাম। তারা টিটিপির বাংলাদেশ-সংক্রান্ত কার্যক্রমের মূল দায়িত্বে তাকা ইমরান হায়দারের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে টিটিপি (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান)-কে অর্থ সহায়তা প্রদান করে এবং যোদ্ধা সরবরাহ করে থাকে।
ভারতকে ছেড়ে দিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যাওয়া এসব পথভ্রষ্ট যুবকরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছে টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় স্থাপিত খারেজি আরসার প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে। যেখানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০০ জন বাংলাদেশিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
প্রশিক্ষণ শেষে এদের একটি বড় অংশকে আফগানিস্তানে পাঠানো হয় এবং পরবর্তীতে তাদের অধিকাংশই আফগানিস্তান হয়ে পাকিস্তানে প্রবেশ করে। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো যারা পাকিস্তানে লড়াই করতে যাচ্ছে, তারা পাকিস্তানের পক্ষে নয়; বরং পাকিস্তানের বিরুদ্ধেই লড়ছে।
তাহলে তারা কার পক্ষে কাজ করছে? তারা মূলত ভারতের হয়েই লড়াই করছে। তবে আরসার ক্যাম্পে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই ৭০০ জন যোদ্ধার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনও বাংলাদেশে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে, যারা যেকোনো সময় দেশে বড় ধরনের অঘটন ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই আরসাকে ধ্বংস করা এখন বাংলাদেশ ও আরাকানের রোহিঙ্গা মুসলিমদের স্বার্থের জন্যই অত্যন্ত জরুরী।
হে রোহিঙ্গা মুসলিম! বাঁচতে হলে আরসাকে থামানঃ
আরসা আজ কেবল রোহিঙ্গা মুসলিমদেরই শত্রু নয়, তারা বাংলাদেশেরও শত্রু। যে বাংলাদেশে থেকে রোহিঙ্গারা স্বপ্ন দেখছে আরাকানকে স্বাধীন করার, সেই বাংলাদেশকেই আরসা মাদক দিয়ে ভাসিয়ে দিয়েছে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের হত্যা করছে যখন তখন।
ডিজিএফআই কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার রেজওয়ানুল হককে হত্যা করে তারা প্রমাণ করেছে, তারা কক্সবাজার-টেকনাফ ছাড়িয়ে পুরো বাংলাদেশের জন্যই হুমকি। মাদক ও অস্ত্র পাচার, পুলিশের ওপর গুলি, গণহারে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভয় দেখানো আরসার এই অপকর্ম গোটা জাতিকে অস্থিতিশীল করার জন্য যথেষ্ট।
সুতরাং আমরা স্পষ্ট কণ্ঠে বলতে চাই আরসা ইসলামের নামে যা করে, তা তারা কেবল ইসলামবিরোধী কাফের শক্তিরই এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই করছে। তারা মাদক পাচার করে, স্বজন হত্যা করে, নারী-শিশু অপহরণ করে, আর দাবি করে আমরা “রোহিঙ্গাদের মুক্তি চাই”।
আজ যদি কোন রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশের কোনো বুদ্ধিজীবী, কোনো আলেম, কোনো সাধারণ মানুষ আরসাকে সমর্থন করে, তবে সে নিজেই ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। সত্যিকারের রোহিঙ্গা মুক্তির পথ হলো আরসার মতো খারেজি চক্রকে প্রত্যাখ্যান করা।
আর এই কাজে সবচেয়ে অগ্রগামী হতে হবে রোহিঙ্গাদের মুসলিমদেরই। আপনাদের অবস্থান হতে হবে সবচেয়ে স্পষ্ট ও শক্ত। আজ প্রতিটি সচেতন রোহিঙ্গা মুসলিমের উচিত আরসা নামক এই খারেজি শক্তিকে প্রতিহত করা, যেন রোহিঙ্গাদের মুক্তির স্বপ্ন ধ্বংস না হয়ে যায়। নিজের জাতিকে এই খারেজিদের হাত থেকে বাঁচান। এদের ধরিয়ে দিন, প্রতিহত করুণ এবং ধ্বংস করে দিন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা