মোঃ সুজন মাহমুদ, ক্রাইম রিপোর্টার
নাটোরের বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত কৃষিনির্ভর জনপদ নাটোর-৪ আসন। দেশের অন্যতম রসুন উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত এই এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে কৃষি। আর সেই কৃষকের জনপদের মানুষের মুখে এখন একটাই নাম— আব্দুল আজিজ। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কৃষকের ঘরের সন্তান ও গণমানুষের নেতা আব্দুল আজিজকে দেশের কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্বে দেখতে চায় নাটোর-৪ এর আপামর জনতা।
সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পেয়ে বিপুল ভোটে বিজয় অর্জন করেন আব্দুল আজিজ। নির্বাচনের পর থেকেই তিনি নিজেকে শুধু একজন সংসদ সদস্য হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং এলাকার কৃষক, শ্রমিক, সাধারণ মানুষ ও তরুণ সমাজের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। উন্নয়ন, কৃষি, শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যেই সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, আব্দুল আজিজ নিজেও একজন কৃষক পরিবারের সন্তান হওয়ায় কৃষকের কষ্ট, ঘামের মূল্য ও বাস্তব সংকট খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করতে পারেন। ফসল উৎপাদনের সময় সার সংকট, ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা বাজার ব্যবস্থার নানা জটিলতা— এসব বিষয়ে তার বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে কৃষকের ভাষা তিনি হৃদয় দিয়ে বোঝেন বলেই মনে করেন এলাকাবাসী।
চলনবিল অঞ্চলের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে প্রতি বছর উৎপাদিত হয় বিপুল পরিমাণ ধান, পাট, রসুনসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য। বিশেষ করে নাটোর-৪ আসনের বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর উপজেলার রসুন দেশের বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্থানীয়রা বলছেন, দেশের কৃষি খাতকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও লাভজনক করতে হলে মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতৃত্ব প্রয়োজন। আর সেই যোগ্য নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি তারা খুঁজে পান আব্দুল আজিজের মধ্যেই।
এলাকার প্রবীণ কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, “আমরা এমন একজন মানুষকে কৃষিমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই, যিনি কৃষকের ঘরে জন্ম নিয়েছেন, মাঠে কাজ করেছেন, কৃষকের দুঃখ বুঝেন। আব্দুল আজিজ সেই মানুষ।”
একই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তারাও। তাদের মতে, বর্তমানে কৃষিকে আধুনিকায়নের পাশাপাশি কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। আব্দুল আজিজ কৃষিবান্ধব নীতি গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন বলেই তারা বিশ্বাস করেন।
শুধু কৃষি নয়, এলাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতেও উন্নয়নের বার্তা দিচ্ছেন তিনি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, সুখে-দুঃখে পাশে থাকা এবং রাজনৈতিক সৌজন্য বজায় রাখার কারণেও তিনি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি নিজেকে একজন জনবান্ধব নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এলাকার সচেতন মহলের ভাষ্য, দেশের কৃষি আজ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। জলবায়ু পরিবর্তন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও কৃষকের ন্যায্যমূল্য সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন দূরদর্শী নেতৃত্ব। তাদের মতে, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি সম্পর্কে গভীর বাস্তব জ্ঞানসম্পন্ন একজন প্রতিনিধি হিসেবে আব্দুল আজিজ জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
স্থানীয় ব্যবসায়ী, কৃষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, কৃষিনির্ভর অঞ্চলের প্রতিনিধি হিসেবে তাকে কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হলে তা শুধু নাটোর-৪ নয়, সারা দেশের কৃষকদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করবে। এতে কৃষকেরা নিজেদের একজন মানুষকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখতে পাবে এবং কৃষি খাত আরও গতিশীল হবে।
নাটোর-৪ এর মানুষের বিশ্বাস, আব্দুল আজিজের নেতৃত্বে দেশের কৃষি খাত আরও সমৃদ্ধ, আধুনিক ও টেকসই হয়ে উঠতে পারে। কৃষকের ঘরের সন্তান হিসেবে তিনি কৃষির উন্নয়নকে শুধু রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, বরং নিজের আত্মিক দায়িত্ব হিসেবেই দেখবেন— এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
সবমিলিয়ে নাটোর-৪ এর জনপদে এখন একটাই আলোচনা— “কৃষকের আপন মানুষ আব্দুল আজিজকে কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্বে দেখতে চায় জনগণ।”