মোঃ মকবুলার রহমান, ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি
“দেশ বাঁচলে আমরা বাঁচবো, দেশ না বাঁচলে আমরা বাঁচবো না” — এই একটি বাক্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে একটি জাতির অস্তিত্ব, ভবিষ্যৎ ও নাগরিক দায়িত্ববোধের গভীর বার্তা। বর্তমান সময়ের নানা সংকট, সামাজিক অবক্ষয়, দুর্নীতি, রাজনৈতিক বিভাজন ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে দেশপ্রেম ও জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি দেশের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণ বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে নিশ্চিত হয় না। বরং মানুষের নৈতিকতা, দায়িত্বশীলতা, সততা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতাই একটি রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করে তোলে। যখন সমাজে অন্যায়, দুর্নীতি, হিংসা ও স্বার্থপরতা বাড়তে থাকে, তখন ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো দেশ এবং এর প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনেও।
সচেতন মহল মনে করছে, দেশকে ভালোবাসা মানে শুধু জাতীয় দিবসে বক্তব্য দেওয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগ প্রকাশ করা নয়। প্রকৃত দেশপ্রেম হলো নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা, আইন মেনে চলা, মানুষের অধিকারকে সম্মান করা এবং দেশের সম্পদ রক্ষায় সচেতন থাকা।
তারা আরও বলেন, দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট হলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ। কর্মসংস্থান কমে যায়, শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয় এবং তরুণ প্রজন্ম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। ফলে একটি দেশের সংকট শেষ পর্যন্ত প্রতিটি পরিবারের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মনে করছেন, বর্তমান সময়ে জাতীয় স্বার্থকে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে হবে। রাজনৈতিক মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু দেশের প্রশ্নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কারণ একটি নিরাপদ, উন্নত ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে উঠলে তার সুফল ভোগ করবে দেশের প্রতিটি নাগরিক।
সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও দেশপ্রেম, মানবিকতা ও নৈতিক শিক্ষার চর্চা বাড়ানো জরুরি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে এ বিষয়ে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
সবশেষে সচেতন নাগরিকদের আহ্বান, বিভেদ নয় ঐক্য, হিংসা নয় মানবিকতা এবং দুর্নীতি নয় সততার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ দেশ টিকে থাকলে টিকে থাকবে মানুষের স্বপ্ন, অধিকার ও ভবিষ্যৎ।